ঢাকা , রবিবার, ১৯ এপ্রিল ২০২৬ , ৬ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

কুড়িগ্রামে অরক্ষিত নদী তীর

ভাঙন আতঙ্কে তিস্তা পাড়ের মানুষ

স্টাফ রিপোর্টার
আপলোড সময় : ১৯-০৪-২০২৬ ০৩:৩৪:৩৭ অপরাহ্ন
আপডেট সময় : ১৯-০৪-২০২৬ ০৩:৩৪:৩৭ অপরাহ্ন
ভাঙন আতঙ্কে তিস্তা পাড়ের মানুষ ছবি : সংগৃহীত
কুড়িগ্রামে তিস্তা নদী তীরের সাড়ে ৩ কিলোমিটার অরক্ষিত এলাকায় বসবাসরত মানুষ রয়েছে ভাঙন আতঙ্কে। পাশাপাশি সাড়ে ১৪ কিলোমিটার নদী প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার ৩টি পয়েন্টে কাজ শুরু না করায় বর্ষা মৌসুমে ভাঙনের জন্য যেন উন্মুখ রাখা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট প্রশাসন বলছেন হঠাৎ করেই পানিবৃদ্ধি পাওয়ায় কাজ সাময়িক বন্ধ রয়েছে। পানি নেমে গেলেই দ্রুতগতিতে কাজ শেষ করা হবে।

কুড়িগ্রাম পানি উন্নয়ন বোর্ডের বন্যা নিয়ন্ত্রণ ও নিষ্কাশন প্রকল্পের (দক্ষিণ প্রকল্প) আওতায় ২০২৪-২০২৫ অর্থবছরে জেলার উলিপুর উপজেলায় তিস্তা নদীর বাম তীরে অতি স্পর্শকাতর ভাঙন কবলিত এলাকায় ৪০টি প্যাকেজে ৮৫ লাখ টাকার কাজ হাতে নেয়া হয়। বর্ষার আগেই ৭৫ভাগ কাজ শেষ করা হলেও, এখনো ৩টি প্যাকেজের কাজ শুরু না করায় শঙ্কায় রয়েছে ওই এলাকার মানুষ। পাশাপাশি একই উপজেলার বজরা ইউনিয়নের তিস্তা নদীর বাম তীরের সাড়ে ৩ কিলোমিটার অরক্ষিত এলাকার জন্য কোন বাজেট বরাদ্দ না হওয়ায় সামনের বর্ষা ও বন্যা মৌসুমে নদী ভাঙন ও পানিবন্দী হওয়ার আশঙ্কায় রয়েছেন নদী তীরের মানুষ।

স্থানীয় বকুল মিয়া (৪০) আব্দুল আজিজ মিয়া (৬০) মোছা. আকলিমা বেগমসহ (৫৫) অনেকেই বলেন, পশ্চিমে ওয়াপদার ক্রস বাঁধ থেকে পূর্বে গাইবান্ধা জেলার কাসিমবাজার পর্যন্ত ভাঙন রোধে কার্যক্রম হাতে নেওয়া হলেও মাঝখানে কোনো কাজ করা হচ্ছে না। সামনে বন্যায় এই এলাকার প্রায় ২৫ হাজার মানুষের অবস্থা ভয়াবহ হবে। বন্যার সময় আমাদেরকে বাড়িঘর ছেড়ে দূরে গিয়ে আশ্রয় নিতে হয়। এসময় অনেককে গরু-ছাগল ও ঘরবাড়ি নিয়ে রাস্তায় অবস্থান করতে হয়।

বজরা ইউনিয়ন পরিষদের ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুল কাইয়ুম সরকার বলেন, আমার বজরা ইউনিয়নের সাড়ে ৬ কিলোমিটার তিস্তা নদী তীরের মধ্যে ৩ কিলোমিটার তীর রক্ষা কাজের বরাদ্দ আসলেও এখনো তিনটি প্যাকেজের কাজ শুরু করা হয়নি। পাশাপাশি বাকী সাড়ে ৩ কিলোমিটার নদী তীরের জন্য কোনো বরাদ্দ না আসায় সামনের বন্যায় অরক্ষিত এলাকার মানুষের জীবনে চরম ভোগান্তি নেমে আসবে।

এ বিষয়ে পানি উন্নয়ন বোর্ডের কুড়িগ্রামের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. রাকিবুল হাসান বলেন, কুড়িগ্রামে তিস্তা নদীতে দুটি ফেজে সাড়ে ১৪ কিলোমিটার ব্যাপী কাজ চলমান রয়েছে। এর মধ্যে ৩টি প্যাকেজে ডাম্পিং কাজ হলেও স্লোপ ব্লেসিং করা শুরু হয়নি। নদীর পানি নেমে গেলেই দ্রুত কাজ শেষ করা হবে। এর বাইরে ৩য় ফেজে আরও ঝুঁকিপূর্ণ। সাড়ে ৩ কিলোমিটারের কাজের চাহিদা দেওয়া হলেও সেটার কোনো অনুমোদন পাওয়া যায়নি। এই বর্ষায় আমরা সেগুলো পর্যবেক্ষণে রেখেছি। কোন ভাঙন দেখা দিলে আমরা জরুরি ভিত্তিতে জিও ব্যাগ দিয়ে ভাঙন রক্ষা করব।

বাংলাস্কুপ/প্রতিনিধি/এনআইএন
 

 


প্রিন্ট করুন
কমেন্ট বক্স



 

এ জাতীয় আরো খবর

সর্বশেষ সংবাদ